"প্রাণের আগমনী"
**************************
আসছে উমা বছর পরে শিউলি শরৎ প্রাতে,
নদীর তীরে শুভ্র পরী হিমেল হাওয়ায় মাতে।
খুশির জোয়ার ঘরে ঘরে দুঃখ গেছে দূরে,
স্নিগ্ধ বাতাস উঠলো ভরে আগমনীর সুরে।
নীল আকাশে মেঘের তরী বইছে সারা বেলা,
জ্বলবে ঘরে মঙ্গল দীপ আসছে মিলন মেলা।
আসছে ঘরে জগৎ মাতা ভরবে অন্তঃপুর,
মনের কালো যাবে মুছে দুঃখ হবে দূর।
মায়ের বোধন হবে এবার পড়বে কাঠি ঢাকে,
চিরকালের আবেগ শুধু তোমায় মনে রাখে।।
হিমের পরশ লাগলো হাওয়ায় পূজার গন্ধ ভাসে,
আসছে উমা বছর ঘুরে ভরা শারদ মাসে।
লাগলো চোখে নতুন আলো জাগলো নতুন সুর,
আঁধার রাত্রি গেল দূরে ঐ এল রোদ্দুর।।
বলতে চায় "তুমি আমাকে ফেলে
কোথায় যেতে চাও? অনেক হয়েছে এবার তো
ওঠো।"আবার পরক্ষণেই খাটের পাশটিতে বসে
বার বার হাম্বা ফি রবে ডাক ছাড়তে থাকে। এবং যতক্ষণ না শব দেহটিকে অগ্নিকুন্ডের
মধ্যে শোয়ানো হয় ততক্ষণ সে ঠায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে।মূক প্রাণী মানুষের
মতো ডাক ছেড়ে কাঁদতে পারে না কিন্তু এ
যেন এক গভীর শোকের ছায়া তাকে দেখেই বোঝা যায়।তার হাম্বা রবে এবং চোখের
সকরুণ দৃষ্টি শশ্মান যাত্রীদের মধ্যেও গভীর
কষ্টের আবহ তৈরি করে দেয়। ছত্তীশের মৃতদেহ
সম্পূর্ণরূপে দাহ না হওয়া পর্যন্ত সে একজায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। তার নীরব চোখের জল
সমস্ত শশ্মান যাত্রীদের মধ্যেও সংক্রামিত হয়
সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।সমস্ত পরিবেশ
কান্নায় হাহাকার করে ওঠে।গ্ৰামের শশ্মান
ফল্গু নদীর তীরে হওয়ায় ফল্গু নদীও এই
দৃশ্যের সাক্ষী থেকে যায়।
কুস্তি খেলার বন্ধু
এখন অনেক রাত
বসে আছি প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে
আমার পাশে এসে বসলেন
এক দীর্ঘকায় সুপুরুষ ।
লম্বা কোঁকড়ানো চুল ,সুন্দর
একমুখ কালো কালো দাড়ি ।
আমি বিস্ময়ে হতবাক
আমার পাশে এসে বসেছেন
ইনি তো স্বয়ং" রবীন্দ্রনাথ "!
তিনি বললেন " বৎস! তুমি এসো
আমার সঙ্গে তোমার শেষ ট্রেন
আসার এখনও অনেকটাই দেরি আছে।
এসব জায়গায় তুমি আসোনি তো আগে
চলো তোমাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি
প্ল্যাটফর্মের বাইরে কোথায় কী দেখার মতো আছে।"
তিনি তাঁর শক্ত মুঠোয় ধরলেন আমার হাত।
বললেন, " এ জায়গার কথা কী তোমার স্মরণে
আসে? আমি আর তুমি রোজ বিকেলে এসে
কতদিন কুস্তির মহড়া দিয়েছি; তুমি প্যাংলা হলে
কী হবে তোমার শরীরেও ছিল ভালোই তাগদ।
যদিও আমারই জিৎ হতো বরাবর"।
আমি বললাম, "তুমি কবে কুস্তির মহড়াতে ভাগ
নিয়েছো ! তবে তুমি এতো এতো গান ও কবিতা
লিখলে কেমনে?"আমার প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হাসি হাসলেন। "সেসব গুঢ় রহস্যের কথা নাই বা শুনলে। তবে একথা জেনে রাখো, যতদিন
বেঁচে আছি তোমাকে আমার মনে থাকবে কুস্তি
খেলার পার্টনার হিসেবে।"
আমার শেষ ট্রেন আসতে দেখে তিনি জানালেন,
"এসো! তোমাকে ট্রেনে চড়িয়ে দিই। আমার
কথা তুমি অবশ্যই মনে রেখো, কবি হিসেবে নয়
শুধু কুস্তি খেলার বন্ধু হিসেবে।"
তিনি বললেন, "বিদায় বন্ধু বিদায়! এবার
তোমার সঙ্গে দেখা হবে সরাসরি কুস্তির আখড়ায়।"
No comments:
Post a Comment