সুকুমার হালদার
তুমি চলে যাবে বুঝতে পারিনি
তুমি ফিরবে কিনা...
না ফেরার শূন্যতা ঘোর লাগায়
আরও গভীর হয়ে ওঠে টিকে থাকা
সারাদিন কাটাকুটি খেলা শেষে
ক্যালেন্ডারে সাতদিনের ঘরে সাতটা তুমি লিখি
মাথা নুয়ে পড়ে বালিশ বিছানায়
কর্পোরেশনের বাঁশীওলা সকাল জাগায়
প্রেসারকুকারের সিটি দিনভর ছোটায়
বাঁচার গন্ধ এগিয়ে চলে
সপ্তাহ মাস ৩৬৫ শুধু তুমি লিখি
শুধু তুমি লিখি শিরা ধমনীর পংক্তিতে পংক্তিতে
কপালে চাঁদ লিখি
তুমি লিখি শুধু আকাশে বাতাসে
ঘর জুড়ে শুধু তুমি
আমি তুমির ঘরেই থাকি
থালা বাটির ঝনঝন লিখি।কাচ্চা বাচ্চার হুল্লোড়
মাইক্রওভেনে খাবার গরমের উষ্ণতায় লীন হই
আর ভাবি, চলে যাওয়াটা কত মসৃণ!
তোমার শূন্যতায় গভীর হয় অশ্রু বেদনা
ঘন বাতাসে পবিত্র প্রশান্তি
সন্ধ্যা নামে এলোমেলো কথায়
আনমনা চাঁদ নিয়ে আত্মশুদ্ধি মাখি
অপরূপ মুগ্ধতার চিত্রকল্প আশ্চর্য করে তোলে
আর আশ্চর্য আমাকে অপেক্ষা শেখায়!
অনন্ত অপেক্ষায় তোমার ভেতর ভাঙা বাসা সারিয়ে তোলা চেষ্টা। ঠিক একদিন উষ্ণ আলোর স্রোত পাবো
অভ্যর্থনা জানাবো আবারও
বরফের যুগ শেষ করে পাথর যুগের ভোরে
তুমি লেখা সমস্ত পাথর গুহায়
মানুষ হবার ক্রমপর্যায় শুরু হবে
এবার তো সুযোগ। সমস্ত চাহিদা উন্মুক্ত কর
উপড়ে ফেলো প্রথার শিকড়
জাগিয়ে তোলো সমস্ত আদরগুলোকে
আদরের রং দিয়ে গুহাগাত্রে আঁকা হোক
বড়ু চন্ডীদাস
আর তোমার কপাল জুড়ে গেরস্ত চাঁদ উঠুক
রামী সিঁদুরের
নিমেষে উবে যাবে দিন মাস বছর শতাব্দী
প্রাচীনতার জানলা খুলে দেব। বিরামহীন পরিহাসগুলো বেরিয়ে যাবে মরা নদীতে
সব দুঃখ কষ্টগুলোকে রিফু করে
ঘুমে জড়ানো আঠা চোখ ছাড়িয়ে
অন্ধকার ঘেঁটে চলে যাবো নিবিড় সময়ে
তুমি পাবো নিবিড় সময়ের বুকের ভিতর
জনকোলাহলের ভিতর ভেসে যাক পুষে রাখা বদনাম
পরকীয়ার রৈখিক বিন্দু হয় কিনা জানি না!
কিশোর বেলার বাকলের গায়ে পুঞ্জীভূত অভিমান
কিশোর বেলার আলো দেখি প্রাচীন উঠোনে
আম আঁটির ভেঁপু আচার চুরির রহস্য
চু-কিত-কিত...
ফেলে আসা সবুজ পাতায় ডাক-পিওনের চিঠি
বইয়ের পাতায় লুকিয়ে রাখা ঝাউপাতার গোপন ইশারা।
নীল পেনে লাল লিখে বোকা বানানোর ফন্দি
মাঝে মাঝে ভাবতে থাকি
সময় স্তব্ধ হয়ে তুমির ছায়ায় আচ্ছন্ন করে তোলে
এ এক নির্লোভের আখ্যান
সুগারের ওষুধ ভুলে যাই
তোমার থাইরয়েড আমার কোলেস্টেরল
তুমি জুড়ে আমি কেবল ওষুধ ভুলে যাই
কেবল ওষুধ...
No comments:
Post a Comment