Saturday, 8 October 2022

হিল্লোল রায়ের একগুচ্ছ কবিতা

হিল্লোল রায়ের একগুচ্ছ কবিতা --

কিসিং ট্রি পার্ক

উইক এন্ডে গিয়েছিলাম "কিসিং ট্রি পার্ক"

ঢুকতে সেথায় চমকে দিলো এ্যালসেশিয়ান বার্ক

প্রাকৃতিক সব দৃশ্যে মোড়া ম্যাগনোলিয়া গাছ

এ্যাকোয়ারিয়াম বদ্ধ জলে বাঁচিয়ে রাখে মাছ

স্বচ্ছতোয়া ঝর্ণা ধারার স্রোতের মাঝে নুড়ি

হুমড়ি খেয়ে চলকে গেলে হাসে গোলাপ কুঁড়ি


ধোঁয়াশা মোড়া মেঘের দল পাহাড় গায়ে এসে

সোহাগ করে ভেজায় তাকে, খিল্লি দিয়ে হেসে

অশ্রু সজল হুতুম পেঁচা রাতের অন্ধকারে

মেলায় গলা পেঁচানী গলায়, খুঁজেই চলে তারে

এমনই এক আজব শহর স্যান এঞ্জেলোতে আছে

"কি টি পি"-টা টেক্সাস এই, হিউস্টনের কাছে।

***


২) কোভিড বিশ্বে মায়ের পুজো

হিল্লোল রায়


মা এর পুজো দেখেছি এবার অন লাইনে, ভার্চুয়াল

অঞ্জলিটাও নমো নমো, নয় কিন্তু এ্যাকচুয়াল

মনিটর-এই তাকিয়ে দেখি মায়ের হাসি মুখ খানা

তিনি আসছেন সদলবলে, সঙ্গে খাঁটি সোনা দানা

জামা কাপড় ও শাড়ি বাহারে মুখ ঢেকেছে মাস্ক

পুলিশরা সব ডান্ডা নাচায়, এটাই তাদের টাস্ক


সিঁদুর খেলা অন লাইনে, “ ফ্লাইং কিস” এর মতো

আশীর্বাটাও আনবে বয়ে ই-মেল অবিরত!

ধুনুচি নাচ ও নাচন-কোদন করলে, পরে মাস্ক

পড়বে খসে মুখের থেকে, বলবে কোভিডঃ “আস্ক”

ভি আই পি দল কাটেন ফিতে, কাঁচি গুলো হয় ভোঁতা

কোভিড ভীতু পুজোয় নেতা ভিমরি খাওয়ার হোতা


লক ডাউন এ কুছ পরোয়া, দর্শক হাতাহাতি

মাস্ক না পরে ছেলে-ছোকরা করবে মাতামাতি

করলে প্রয়োগ আইন-কানুন, আম জনতার দল

রাজনৈতিক নেতার সাথে করবে কোলাহল

কাঁদুনি গ্যাস ও জলকামান এ্যাক্কেবারেই অচল

পুলিশ সুপার লালবাজারে ফোনাফুনিতে সচল


“ই-বে” আর “আমাজন” আজ খোলা দিনে ও রাতে

কার্ড নাম্বার ও সিক্রেট কোড চাইছে হাতে নাতে

দুধের স্বাদ মেটাই ঘোলে , মা দর্শন নাই বা পাই

অনলাইন ও ভার্চুয়াল এ্যাক্কেবারেই যাচ্ছেতাই

কোভিড বিশ্বে পুজো বাজেট এ পড়লে টানাটানি

দেবেন টাকা এক জনই, গৌরী সেন-কে জানি

নেই ঝামেলা অনলাইনে, ভার্চুয়াল – ই ভালো

স্পিরিচুয়াল নাই বা হলেও ঘুঁচবে মনের কালো


***


(৩) মাশরুম মাদকতা

হিল্লোল রায়


মাশরুম খান প্রধানমন্ত্রী

রাখতে 'স্কিন' সাদা-

রঙিন জলের পাশাপাশি

চিবিয়ে খান আদা


মাসরুমে তার মাদকতা

চায়না থেকে আসে-

একটার দাম, আশি হাজার

গৌরী সেন ও হাসে


পাঁচ-পাঁচটা মাশরুম

তার ডিনারেতে চাই

অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন

সত্যি নাকি? তাই?


পাঁচ মাসরুম উড়ে আসে

প্লেনেই প্রতিদিনে

ডেলিভারী দেওয়ার পরেই

প্লেন উড়ে যায় চিন-এ


রাজা-মন্ত্রীর “হুজুগ” মেটায়

এই ধরণের খাবার

দেশবাসীরা মরছে খিদেয়

রাজকোষ ও কাবার


ট্যাক্সপেয়ার এর টাকার লগ্নি

বেজিং গ্যাঁড়াকলে

নিষ্প্রয়োজন, মাসরুম তো

দেশের মাঠেই ফলে।


***


(৪) সরব “নিরব” টেল

হিল্লোল রায়


“PNB” গেল ফেঁসে, হোতা “নিরব” চক্র

প্রথম থেকেই জানতো না কেউ, দৃষ্টি-টা তার বক্র

পান্না, হীরা, চুনি, মতি-র ছিল স্পেশাল ভল্ট

ব্যাংক ম্যানেজার টুক ইট উইদ সিম্পলি গ্রেন অফ সল্ট

“হ্যার্লি” চেপে বাইরে দ্বারী শোনায় ব্রুম ব্রুম

ভাব দেখাতো “নিরব” যেন তাদের ব্রাইড গ্রুম

ইন্টারপোল খুঁজছে এখন “নিরব” হোটেল রুম

হাটে হাঁড়ি ভাঙার পরই মুখ যে তাদের গুম


হলিউডের তারকাদের মাথায় শত হিরে

সরব হয়ে চুপটি থাকে চড়ি “নিরব” শিরে

বলিউড ও বাদ যায় না, মাথায় দিয়ে “ভেল”

“PNB” ফান্ড শূন্য আজি, স্রষ্টা “নিরব” খেল

জীবন-টা তাই হচ্ছে মনে, যেন “লিভিং” হেল

দেশটা ক্রমে যায় বিকিয়ে, শূন্য যত জেল

ইতিহাস ও তাই লিখছে বসে, সরব “নিরব” টেল

দেশবাসী সব করছে ফেস স্ট্রং উইন্ড গেল !



***


(৫) হাসির খোরাক

হিল্লোল রায়


ফেটাচিনি রাশিয়ায়

চাইনীজ খেয়ে

প্রেমে পড়ে রাঁধুনীর,

বলে গান গেয়ে !

এ্যাং ফুং খুশি মনে -

সার্ভ করে ডাকলিং !

ফেটাচিনী ডগমগ -

সে কি তার চাকলিং !!


ভিক্টোরিয়া-র সিক্রেট

চাও যদি জানতে -

বাড়িতেই বিজি থাকো -

বসে ধান ভানতে !

ক্যাটালগ এ ভরা তার -

ভঙ্গিমা পোজ -

হলিউড এ চলে এসো

পাবে তার খোঁজ !!


অ্যালফ্রেড গিলবার্ট -

সুরাপানে ভক্ত !

নাক উঁচু করে বলে -

'ব্লু' তার রক্ত !

সাথী তার মিশকালো

ক্রিস্টিনা ডার্লিং -

পরচুলা পরে থাকে ,

চুলগুলো কার্লিং !!


জিরাফ এর শিষ্যা

স্ট্রেফনীয়া জনসন !!

লাঞ্চের টাইমে -

হেঁটে চলে শনশন !

ছয় ফুট লম্বা,

কটিদেশ সরু তার -

দৃষ্টিকে কাড়ে সে

পথে যেতে বার বার !!

***

No comments:

Post a Comment

কবিতা -- ফিরিয়ে দাও--সৌদামিনী শম্পা

কবিতা --  ফিরিয়ে দাও সৌদামিনী শম্পা  ছেড়ে এসেছি দিনগুলো অতীতের ছায়ামাখা পথে। শান্ত শীতল দিন, ঝড়হীন, দোলাচলহীন, বড় অমলীন সে ...