Sunday, 9 October 2022

বীরেন্দ্রনাথ মণ্ডলের কবিতা ও গল্প --

বীরেন্দ্রনাথ মণ্ডলের কবিতা ও গল্প --


অভিযান 


দুর্বলেরাও হতে পারে প্রবল পরাক্রান্ত। 
যখন সমস্যাগুলি পরিণত করে পরিকল্পনায়। 
দুঃখ গুলি পরিবর্তন হয়ে যায় সুখের। 
কষ্টও  পরিবর্তন হয় আনন্দের। 

সমানভাবে বাধাও  হয়ে যায় সুযোগ। 
পরাজয় পাল্টে যায় আকস্মিক জয়। 
বাধা দেওয়া প্রস্তর হয়ে যায় উপরে ওঠার সিঁড়ি। 
মানব সম্পদে থাক অফুরন্ত অন্তর্নিহিত শক্তি। 

প্রত্যেক সমস্যাকে সে চেয়ে  দেখে। 
একটি করে আনন্দদায়ক অন্তরালে। 
পেতে থাকে ঝুড়ি ঝুড়ি ফসলের উপহার। 
দূর করে হতাশা ব্যথা ভগ্ন হৃদয়ের। 

তাদের হৃদয় হয়ে যায় করুণাসাগর সহানুভূতিশীল। 
শত্রুরাও  হয়ে যায় বন্ধু বাড়ায় হাত মিত্রতার। 
সুতরাং দুঃখ-কষ্টে ভয় না পেয়ে হও অভিযানকারী। 
সত্যিই দৈবশক্তি হয় উদয় মানুষের ভিতরেই । 


রাধাষ্টমী প্রসঙ্গে 


ভালোবাসা ডাকে কালো কোকিলের সুরে। 
রিনিঝিনি মধুর শব্দ হয় শঙ্খ -চূড়ির প্রত্যুত্তরে। 

কৃষ্ণ উঠলো কদম্ব বৃক্ষ উপরে । 
আরম্ভ হলো সুমধুর গীত কোকিলের স্বরে ।
 ইংগিতে  জানালো কৃষ্ণ রাধারানীকে তার আগমন বার্তা।
মনের ভাব প্রকাশে রাধারানী দর্শনের ইচ্ছা ।

কোকিলের ডাক শুনে রাধারানী আসে ঘরের বাইরে। 
খোলার চেষ্টা করে বাইরের দরজা অতি যত্ন করে। 
হাতের চুড়ির শব্দ হয় বাজে সুমধুর তানে। 
শ্রীকৃষ্ণ শুনে শব্দ প্রীত হন অন্তরে অন্তরে। 

রাধারানী চুড়ির শব্দে কুটিলা ওঠে জেগে 
কি ওখানে কে  ওখানে বলে চিৎকার করে? 
কর্কশ স্বরে রাধা কৃষ্ণ বিচলিত হয়ে পড়ে। 
দুই প্রেমিক যুগলের হৃদয় বিদীর্ণ করে। 

কৃষ্ণ ডাকে রাধারাণীকে কোকিলের সুরে বসে কদম্ব ডালে। 
রাধারানী দরজা খোলার চেষ্টা করে চুড়ির আওয়াজ শব্দ করে। 
অমনি কুটিলা চিৎকার করে কে  ওখানে কে ওখানে? 
এইরূপ চলে সারারাত। 
কোকিলের ডাক চুড়ির আওয়াজ। 
রাধাকৃষ্ণ আনন্দিত বৃন্দাবন চঞ্চল। 

অজ্ঞাত 

অভিমান করা ভালো। 
কিন্তু কি জন্য অভিমান? 
তা যদি না জানা যায়
তাহলে লোকে কি করে? 
মুখে এঁটে দিয়েছো খিল। 
খোলার নাম নেই। 
যত যা কৌশল জানা ছিল
সবই তো প্রয়োগ করে দেখলাম। 
কিছুতেই কিছু কাজ হলোনা। 

অনেকদিন পরে তোমার কাছে এসেছিলাম। 
তুমি অমনি নির্বাক হয়েই রইলে । 
কিছু সময় পরে চলে গেলে। 
কিছু তো বললে না। 
অবশ্য কিছু সময় পরে কেউ একজন
জল আর মিষ্টি নিয়ে এলো ।
আমি চলে এলাম তখন
আমারও অভিমান হয়। 
দেখি কতদিন চলে  এই পালা। 

ভাবছি দূরে কোথাও চলে যাব। 
সেখানে গিয়ে গাছ নদী সবুজ ঘাস
দেখে যদি মনে শান্তি পাই 
তোমার যদি অভিমান ভাঙ্গে
এসো আমার সেই পুরনো পর্ণকুটিরে। 
যেখানে আমি যাই আমার দুঃখ হলে। 
আমি এবার ভীষণ ধ্যান করব। 
আত্মা পরমাত্মা এমনকি পরব্রহ্মর । 
খোঁজ নেব অধিভূত  অধিদেবতা পরমেশ্বরের। 
স্বর্গসুখ কেমন হয় তাও জানার চেষ্টা করব? 
এতসব যাগযজ্ঞ করার পর যদি  মনে শান্তি পাই। 


অপেক্ষায় 


শ্রাবণ মাস শেষ হয়ে গেছে। ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ। 
আজ রবিবার সারাদিন বর্ষা হচ্ছে। ঘরে বন্দি হয়ে আছি। 
খিচুড়ি রান্না করে ইলিশ মাছ ভাজা হচ্ছে। বেশ লাগছে। 
একটা মন হালকা ঝিরঝিরে ভাব।  ফ্ল্যাটের ছয় তলায়   জানলা দিয়ে  এসে মাঝে মাঝে বৃষ্টি দেখেছি। নিচের কলাগাছ গুলির পাতায় জল পড়ে বেশ একটা রিমঝিম ভাব। লোকটা বলল পদ্মার ইলিশ। কাটিয়ে নিয়ে এসেছি। 
গরম গরম খিচুড়ি রান্না করেছি। থালায় বেড়ে ডাইনিং টেবিলে রেখেছি। দুটো প্লেটে বেড়েছি। সঙ্গে কাঁচালঙ্কা আর লেবু কাটা। পেঁয়াজও  চাক চাক করে কেটেছি । 
ইংলিশের চারটে পিস  গরম তেলে ছেড়ে দিলাম। ভাজা হচ্ছে। দুটো প্লেটে গরম গরম ইলিশ ভাজা বেড়ে  খিচুড়ি প্লেটের পাশে রাখলাম। দু গ্লাস জলও ।

আমি একটা চেয়ারে বসলাম। তুমি আসবে বলে অপেক্ষায় আছি। কত সময় লাগবে তোমার আসতে? 
বেশ একটা মনোরম পরিবেশ। বাইরে বৃষ্টি ঘরে গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা। তুমি এখনো আসছে না কেন? হায়দ্রাবাদ থেকে আসতে কত সময় লাগবে। তুমি তো বললে  ফ্লাইটে বসেছো। বিশাখাপাটনাম পার হয়ে গেছো। 25 মিনিটে পৌঁছে যাবে। এখনো আসছে না কেন? 
গরম খিচুড়ি ঠান্ডা হয়ে গেলে ভালো লাগবে না। তোমার মোবাইল তো ফ্লাইট মোডে আছে। আর কত দেরি গো আমি তো বসে আছি? তুমি আসছো না কেন? আর কত বসে থাকবো গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা নিয়ে ।
তোমার ফ্লাইট কি বর্ষার  জন্য ল্যান্ড করতে পারছে না ?
আমি বসে আছি দু প্লেট  গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা নিয়ে। তুমি এলেই একসাথে খাব ।



বন্ধু মিলন


জানো গতকাল আমি পুরী   গিয়েছিলাম। সেখানে একটা জরুরী মিটিং ছিল। আগামী নভেম্বরে আমাদের একটা ex-student মিট হবে তারই  কাজে। বড় একটা   
 হোটেল ভাড়া করা হবে। প্রায় 200 এক্স স্টুডেন্টদের সমাবেশ হবে ।আমরা তিন বন্ধু কারে যায় সেই হোটেলে। কলকাতা থেকে আমাদের চেয়ারম্যান আসেন।হোটেলের কর্তৃপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে প্রায় দেড়টা বেজে যায়। তারপর তারা সৌজন্যমূলক আপ্যায়ন  করে লঞ্চের মাধ্যমে। আমরা সবাই খুব খেলাম। শেষে পুডিং কাস্টার্ড।  আমার দুই বন্ধু  কার নিয়ে ভুবনেশ্বর  ফিরে যায়। আমি সিনিয়র বন্ধুর সাথে হোটেলে ফিরে আসি। তারপর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। 

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সমুদ্রতীরে চলে যাই ।স্বর্গদ্বার এসে এসব সুমিষ্ট খাজা আর ছানাপোড়া কিনি।বন্ধুও কেনে কলকাতা নিয়ে যাবার জন্য। ওখানে হস্তশিল্পের সুন্দর সুন্দর হাত ব্যাগ আর পার্স উনি কেনেন। আমি বলি কার জন্য কিনছেন ?
 উনি বললেন নাতনির জন্য । আমিও কিনি আমার  ভাইঝি  জলির    জন্য ও এবার ইলেভেন  ক্লাস উঠেছে। নাইনটি ওয়ান পার্সেন্ট মার্ক পেয়েছে। অবশেষে দেখলাম দুজনই একই জিনিস কিনেছি। তারপর আমরা সুরয প্যালেস কুটির  খুঁজতে চলে যাই। আমাদের কিছু বন্ধুর জন্য অ্যাডভান্স বুকিং করতে। যে লোকটি ছিল উনি বললেন কলকাতা থেকে এখানকার রুম বুক করা হয়। আমরা সব বোঝাবুঝি   করে ওখান থেকে চলে এলাম। স্বর্গদ্বার এর রাস্তার দুই পাশের রাস্তায় ভারি ভিড় । বাঙালি লোকেদের ভিড় বেশি। আমার খুব ভালো লাগছিল ।পুরি তো বাঙ্গালী লোকদেরই জায়গা। আমিতো বাঙালি লোক বেশি দেখতে পাই না। মিষ্টির দোকানে সুমিষ্ট খাজা আর ছানা পোড়া লাইন দিয়ে কিনছে ।হাত ভর্তি সোনা গয়না। সবাই যেন মা দুর্গা কার্তিক গণেশ লক্ষ্মী সরস্বতী মনে হচ্ছে। আমি কলকাতা দাদাকে বললাম কি সুন্দর না। উনি  হ্যাঁ বললেন। পরদিন উনি ধৌলি এক্সপ্রেসে কলকাতা চলে গেলেন। আমি ওটিডিসির  একটা এসি বাসে এক ঘন্টার ভিতরে ভুবনেশ্বর বাড়ি ফিরে এলাম। 

ঘরে এসে মোবাইল খুলে দেখি আমার বান্ধবী হোয়াটসঅ্যাপ খুলে অনলাইনে আছে। কিন্তু কিছু বলছে না। আমি পুরীর যে সমস্ত ছবি তুলেছিলাম সব পোস্ট করেছিলাম। কিন্তু কোন রেসপন্স পাইনি। হোয়াট্সঅ্যাপ দেখলে সবুজ  হয়। কিন্তু হয়নি। বুঝলাম হাইড  করেছে। কিছু জিজ্ঞাসা করলেও কোন কিছুর উত্তর দেয় না। আমি যা পোস্ট করেছিলাম তার উত্তরে ভালো-মন্দ কোন কিছু কমেন্ট নাই। গুড মর্নিং গুড নাইটও নাই ।কিছু সময় পরে  লিখলাম আমি ভুবনেশ্বর  ফিরে এসেছি। কোন রিপ্লাই নাই। আমি লিখলাম হঠাৎ বোবা হয়ে গেলে না কি ? কোন উত্তর নাই। এরপর কুইট  করে চলে যায়। 
আমি এখন মান ভাঙ্গাই  কি করে? বুঝে উঠতে পারছিনা। 

সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment

কবিতা -- ফিরিয়ে দাও--সৌদামিনী শম্পা

কবিতা --  ফিরিয়ে দাও সৌদামিনী শম্পা  ছেড়ে এসেছি দিনগুলো অতীতের ছায়ামাখা পথে। শান্ত শীতল দিন, ঝড়হীন, দোলাচলহীন, বড় অমলীন সে ...