কবিতা--
মাথা নাকি গুদাম
-------------------
মাথা বোঝাই আবর্জনা।
যত চেঁচাই খালি হয়না।
মাথা নাকি গুদাম এটা
করব কি এর ভাবি সেটা।
সব জাগতিক কথার বোঝা।
জমা হয় সেথায় সোজা
কষ্ট নেইগো রাখতে হেথায়
আপনি আপ সব থেকে যায়।
বাহির করি কেমন ভাবে,
কূলকিনারা পাইনা ভেবে।
সীমাহীন জায়গা সেথায়
কারিগরির নিপুণতায়।
আশা রাখি তাঁকে দেখার
তাই খুঁজি ঠিকানা তাঁহার।
যদি কেহ জান তাঁরে
দয়া করে বোলো মোরে।
অণুগল্প--
ভীতর ভাল তো মানুষ ভাল
---------------------
চার চোর ছিল। তারা শহর,গ্রামে যেত কোন হোটেল বা ঘরে থেকে সেখানের খোঁজ খবর নিত,তারপর একদিন চুরি করত।চোরদের মধ্যে সব থেকে ছোট ছিল সম্বিত, খুব আলসে। কোন রকমে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েছিল। ঘর থেকে রোজই প্রেসার দিত যাতে কাজ করে কিছু অর্থ উপার্জন করে ঘরে সাহায্য করে।মা বাবার চাপে বিনা পরিশ্রমে যাতে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে তাই ঘর ছেড়ে চোরদের সাথে যোগ দিয়েছিল। কিন্ত এখানে ঘুরে ঘুরে খোঁজ করতে হয় কোন ঘরে চুরি করলে তাদের লাভ হবে,তারজন্য দরকার পড়লে অনেককে বন্ধু বানাতে হয়,ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে কথা বলতে হয়।আশেপাশের পরিস্থিতির খোঁজ নিতে হয়। একবার ধরা পড়লে - রক্ষা নাই। মারের সাথে জেল। চুরি করা জিনিস আবার বিক্রি করার ঝামেলা।তাছাড়া কেমন যেন সব সময় মনের ভিতর একটা ভয় থাকেই।
একদিন এলাকার খবর নিয়ে ফিরছিল তখনি ওর নজর একটা ছেলের উপর পড়ল। ছেলেটি চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে মনের আনন্দে গাইছে " প্রভুজী মৈনে রামরতন ধন পায়ো"আর মাঝে মাঝে জ্যামে ফেঁসে থাকা বা গ্রীন লাইটের জন্য অপেক্ষা রত গাড়ির কাছে যেয়ে নিজের জিনিস বিক্রি করছে। তার গলা থেকে কোমর অবধি মালার মত থরে থরে জিনিস সাজান যেমন পানপরাগ,ইচকদানা বেলুন,চশমা ইত্যাদি।বেশ সুন্দর করে মোটা তাগার সাথে সুতো দিয়ে বেঁধে রেখেছে সব।ছেলেটির কতোই বা বয়স হবে -১৩|১৪ । সম্বিতের খুব ভাল লাগল ছেলেটিকে।যাই করুক মনের আনন্দে আছে বটে। নিজে ঠাটবাটের সংগে থাকে খায় ঠিকই কিন্ত মনে নিশ্চিত শান্তি নেই। কয়েক দিনেই ওর সংগে ভাব করে জানতে পারে ছেলেটি ফাইভ অবধি পড়েছে।ঠাম্মি দাদুভাইয়ের একমাত্র সম্বল ও।মা,বাবা নৌকা ডুবিতে মারা গেছে। যা রোজগার করে মোটামুটি ওদের চলে যায়।ওর সাথে মিশে সম্বিততের সম্বিত ফিরে পেল। নিশ্চয় করল বাড়ী ফিরে সতপথে রোজগার করবে।বুঝতে পারল ওর পথ চলাটা ঠিক নয়। ও বাকি চোরদের বোঝানোর অনেক চেষ্টা করল।কিন্ত ওরা কিছুতেই বুঝলনা যে অন্যকে ঠকিয়ে, চুরি করে মনে গ্লানি নিয়ে ভাল থাকা যায়না। কারন ওদের গ্লানি,পাপ বোধ হয়না।কেননা ওদের ভেতরটাই(যাকে বলে অন্তরাত্মা) শুদ্ধ নয়।
সমাপ্ত
লেখিকার পরিচিতি
-------
আমি প্রেরণা বড়াল (লিলি),রায়পুর, ছত্তিসগড়ে থাকি।
আমি একজন YouTuber। নিজের লেখা কম্পোজ করে গাই সাথে সাথে মিউজিক গুলো ও আমিই বাজাই।কারন কাউকে সাথে পাইনি। স্কুল লাইফে থিয়েটার করার সময় প্রথম গান কম্পোজ করি।কলেজ লাইফে আমার লেখা কবিতা আকাশবাণীতে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ঐ সময় গানের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছি। উপরওয়ালার দয়ায় খৈরাগড় ইউনিভার্সিটি থেকে সংগীত বিশারদের ডিগ্রির সহিত রুপোর মেডেল পেয়েছি। মন্চে দুবার ক্লাসিক সংগীত পরিবেশন করার সুযোগ ও পেয়েছি। গান,কবিতা,গল্প,ভ্রমণ সময় পেলেই লিখি এবং আগেও লেখার আশা রাখি।
নেটের জগতে লেখালেখির বিষয়ে জানা ছিল না।দাদাভাইয়ের( তাপসকিরণ রায়) হাত ধরেই এখানে আসা।তাই অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই দাদাভাই কে।
No comments:
Post a Comment