Saturday, 15 October 2022

অণুগল্প -- কণ্যা--চন্দ্রাণী গুপ্ত ব্যানার্জি

অণুগল্প -- 

কণ্যা 
চন্দ্রাণী গুপ্ত ব্যানার্জি
-----------------------------

আজ সদানন্দ পাল মহাশয়ের টালির ঘরে আলো-আঁধারির খেলা। বেশিরভাগটাই আধারে নিমজ্জিত ।সেই ঘরেরই  নিভৃত কোণে একটি প্রদীপ প্রজ্বলিত । আশে-পাশে পড়ে রয়েছে মাটির ডেলা। প্রদীপের সলতে উসকে দিলেন বিপত্নীক সদানন্দবাবু ।বুকের ভেতরটা যেন হাহাকার করে উঠলো ।ঘরটা আজ বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। হৃদয় ফুড়ে কান্নার স্রোত বেরোতে চাইছে। অশ্রুসজল নেত্রে ফাঁকা ঘরটায় কাউকে  অবিরাম খুঁজে চলেছেন। কিন্তু সে যে আজ নেই ।সদানন্দবাবুর ঘর অন্ধকার করে সে আজ অন্যের  গৃহ আলোকিত করছে। বাইরে আলোর রোশনাই। পৃথিবী জুড়ে আনন্দের বান ডেকেছে। সদানন্দবাবু যে আজ আবারো একা হয়ে গেলেন। এতদিন ধরে তিলে তিলে যাকে গড়ে তুলেছিলেন মনের মতো করে তাকে আজ অপরের হাতে তুলে দিতে হলো। কন্যা মৃন্ময়ী এতদিন সদানন্দবাবুর যে ঘর আলো করে ছিল আজ সেই ঘরেই শূন্যতা বিরাজমান। ষষ্ঠীর সন্ধ্যের আকাশে এক ফালি চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। সেই চাঁদের পানেই তাকিয়ে ছিলেন সদানন্দবাবু ।ঘরে হঠাৎ করেই কারো পদধ্বনি যেন শুনতে পেলেন। এ পদধ্বনি  তার বডড চেনা। তার আত্মজা চিন্ময়ীর। চিন্ময়ী জানে এই কটা দিন তার বাবা মনের দুঃখ কষ্ট পাথর চাপা দিয়ে রাখেন । মৃন্ময়ীকে বাবা নিজের কন্যা জ্ঞানে দেখেন। তাই আজ সদানন্দবাবু মৃন্ময়ীর চলে যাওয়ায় ভগ্নহৃদয়। চিন্ময়ী এসে আস্তে করে ডাকে...

 ---"বাবা ..."

সদানন্দ বাবু ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়ের দিকে তাকান। চিন্ময়ী দেখে তার বাবার চোখে জল। শরৎকালে শ্রাবণের বারিধারা বইছে। এ মানুষটি যে কখনো তার দুই কণ্যার মধ্যে ভেদাভেদ করেননি। দুজনকেই ভরিয়ে দিয়েছেন সমান ভালোবাসায় ।সে দেবী হোক কিংবা মানবী।


No comments:

Post a Comment

কবিতা -- ফিরিয়ে দাও--সৌদামিনী শম্পা

কবিতা --  ফিরিয়ে দাও সৌদামিনী শম্পা  ছেড়ে এসেছি দিনগুলো অতীতের ছায়ামাখা পথে। শান্ত শীতল দিন, ঝড়হীন, দোলাচলহীন, বড় অমলীন সে ...