গল্প --
কে তিনি
আজ সারাটা দিন ছিলো খুব ব্যস্ততাময়, আজ যেন অনেক কাজ আমার, কাজ করছি কিন্তু কেন যেন এগিয়ে যেতে পারছি না, পিছিয়ে পড়ছি, আর যেটাই ধরছি সেটাই বার বার হাত ফসকে পরে যাচ্ছে। তবুও কাজ করে যাচ্ছি, আজ যেন সব কাজ শেষ করতে হবে। মনে হচ্ছে জীবনের পাট সাঙ্গ হতে চলেছে, রান্না করবো বলে গেলাম রান্না ঘরে, গিয়ে দেখি জল নেই কলসিতে, খালি কলসি নিয়ে পুকুরে গেলাম জল আনতে, ঘাটে কেউ ছিলো না, জল ভরতে ভরতে তাকিয়ে দেখি অনেক মহিলারা এসে এক সাথে বলছে আমার কলসটা ভরে দাও, আমি বললাম সবাই লাইন দাও, ওদের এক এক করে জল ভরে দিতে দিতে আমার রান্নার সময় গেলো পেরিয়ে তবুও কেউ ছাড় দিলোনা, কি অলস মহিলা এরা, এসব ভাবতে ভাবতে কলসি নিয়ে বাড়ী এসে কলস রাখলাম ঘরে, হঠাৎ একটা শব্দ পেয়ে বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে, আকাশে তাকিয়ে দেখি হাজার হাজার দূতগন নীল আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে তাঁরা সবাই সাদা পোশাক পরে আছে। দক্ষিণ পূর্ব কোণে একটা বিশাল তারা আর দক্ষিণ পশ্চিম কোণে একটি যাবপাত্রে একটি শিশু শুয়ে আছে, আর উত্তর পূর্ব কোণে একজন জ্যোতির্ময় পূরুষ আকাশ থেকে নেমে এসেছে, মধ্য আকাশে, শূন্যে। আর সকল স্বর্গদূত তাঁর চতুর্পাশে দাঁড়িয়ে তূরী বাজাচ্ছে আর মিষ্টি সুরে প্রসংশার গান গাইছে। আর বলছে তাঁরা উচ্চ রবে, উর্ধ লোকে ঈশ্বরের মহিমা পৃথিবীতে তাহার প্রীতির পাত্র মনুষ্যদের মাঝে শান্তি। আমি আর উর্ধ্বে তাকিয়ে থাকতে পারি নাই, মস্তক নত হয়ে এলো হাত দুটি এক হয়ে এলো প্রণাম জানালাম তাঁকে। আর একটাই রব এলো মুখে, আমায় সকল পাপ হতে মুক্ত করো হে ত্রাণকর্তা, আমি সকল পাপ হতে মুক্তি চাই, আমার পাপ ধরে তুমি বিচার করো না, ক্ষমা করো আমায়। আর তুলে নেও তোমার পবিত্রগনের কাছে, আমি যেতে চাই, তোমার কাছে তোমার স্বর্গধামে। তোমার ঐ কোমল মসৃণ পবিত্র হাত ধরে যেতে চাই তোমার সাথে, সকল স্বর্গদূত গণের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে তোমার নাম প্রশংসা করতে চাই।
কবিতা --
সঙ্গম --
পূর্ণতা পায় জল ঝরে পরা বৃষ্টির ফোঁটাতে
বাষ্প কণায় কঠিন মেঘ হয় যখন আকাশে,
মেঘেমেঘে কঠিন ঘর্ষণ হয় তখন রেগেমেগে
বিদ্যুৎ চমকিয়ে ঝরে বর্ষা তৃপ্ততায় জেগে।
সাগরের সাথে আকাশের হয় প্রেমের সখ্যতা
দু'টি মোহনার মিলন মেলা আনে জলে পূর্ণতা,
সব জল ঐক্যবদ্ধ করে তরঙ্গ ঘূর্ণিপাক তোলে
স্রোতের টানে সমূলে তরঙ্গ যায় গভীর অতলে।
পাহাড়ের অবস্থান একটা থেকে অন্যটা দূরে
সাগর-আকাশ বাঁধা থাকে একই সুরের সুত্রে,
সাগরের জল আকাশের নীলে একাকার হয়ে
নীলাঞ্জনার রঙ হয়ে চিত্র আঁকে রংধনু ছুঁয়ে।
তোমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রোদ, পূর্ণিমার জ্যোৎস্না
ভেসে থাকা নাও বেঁধে অন্তরে এলো সুখের বার্তা,
বিদ্যুৎ চমকানো ঘর্ষণে যদি অগ্নি যেতো পাওয়া
মেঘ হয়ে ভেসে যেতাম দূরে, হতে যদি হাওয়া।
প্রেমিক দৃষ্টি নিয়েছি খুঁজে তোমার ঐ দু'টি চোখে
হৃদয়ের সঙ্গোপনে তৃপ্তির ইশারা দেখেছি সম্মুখে,
তোমার জন্যে নিজেকে সাজিয়েছি মেঘের জলে
প্রেমে পূর্ণ হয়ে কষ্ট পাথর চূর্ণ করে চলেছি সুখ কূলে।
No comments:
Post a Comment