অণুগল্প--
দ্য ইয়েলো সানলাইট--
পার্থ সারথি সরকার
অরুন অনেক দিন ধরে ঘুরছে, রীতিমত হন্যে হয়ে ঘুরছে একটা চাকরির সন্ধানে!! কিন্তু সেই মহা মূল্যবান একটি চাকরির অনুসন্ধান? কোথাও যে কিছুই মিলছে না! হতাশার প্রহর যেন ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলছে যতটুকু আশা ছিল তার সবটুকুকে। কোথাও যেন আর কোন দিশা অবশেষ নেই। একজন ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো পেলে তাই আঁকড়ে ধরে। এবারের এই সুযোগ তাই অরুনের কাছে ঠিক তেমনই লাগলো।
গতকাল পাড়ার চুমকি বউদি একটা কাজের সন্ধান দিয়েছিলেন। বাড়ির থেকে কিছুটা দূরের এক ঠিকানায় একজন বৃদ্ধ মানুষ খবরের কাগজ পড়ে শোনানর জন্য একজন লোক খুঁজছেন। যদিও আগে এই কাজে অনেকেই নিজেদের যুক্ত করতেন কিন্তু আজকাল এমন কাজের জন্য লোক মিলছে না। তাই বেতন একটু বেশি, দিন প্রতি দেড়শ টাকা দেওয়া হবে। পাঁচ টাকার খবরের কাগজ পড়তে দেড়শ টাকা শুধু বেশি নয় বরং অনেকটাই বেশি। দিনে দেড়শ হলে একমাসে সাড়ে চার হাজার তাই আর কিছু ভাবার মত তখন কোন রকম জোর ছিল না আর মনের উপরে। তাই আজ সেই ঠিকানায় চলেই এসেছে অরুন।
কিন্তু এখানে আসার পরে বাড়ীটা দেখে বেশ অবাক হল অরুন! বেশ নিজন জায়গাটা আর বাড়ীটা বেশ পুরনো। এদিকে ওদিকে ভেঙে পড়ছে। এর মধ্যে থাকা কোন বৃদ্ধ খবরের কাগজ শোনার জন্য লোক খুঁজছেন! যা হোক এক পা দুই পা করে বাড়ীর ভেতরে ঢুকতে লাগলো অরুন। আর যাই হোক যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় সেটাই মনের ভেতর ভাবনা হয়ে রয়েছে।
কিন্তু বাড়ীর ভেতরে একটা আশ্চর্য রকম গন্ধ যেন!! অনেকটা শুটকি মাছ রান্না হলে যেমন গন্ধ আসে তেমন যেন! এক তলায় দুটো জানালা ভাঙা আর দরজাটা হাট করে খোলা। বাড়ীর ভেতরে ঢুকে একবার পিছন ফিরে দেখল, রাস্তায় কোন কুকুর বা বেড়ালেরও দেখা নেই। শুধু একটা খা খা করা রোদ যেন সব কিছু পুড়িয়ে দিতে চাইছে। বৃদ্ধ কি তাহলে দোতলায় আছেন?
একটা কোণা ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে গেল অরুন। ওই তো দেখা যাচ্ছে একজন বৃদ্ধকে! একটা ছোট চৌকির উপরে পিছন ঘুরে শুয়ে আছেন। অরুন ধীরে ধীরে ঘরে গিয়ে ঢুকল অথচ বৃদ্ধ একবারও ফিরে তাকালেন না। অরুন দেখল বৃদ্ধের শরীরের নীচ থেকে বেরিয়ে আছে একটা কাগজ, সম্ভবত ওটা একটা খবরের কাগজ! আর বৃদ্ধের পায়ের কাছে রাখা একটা ছোট টুলের উপরে রাখা একটা আকুয়ারিউয়াম। অর্ধেক জলে ভর্তি সেই পাত্র। তার উপরে সামান্য সূর্যের আলো এসে পড়ে একটা অদ্ভুত হলুদ রঙের লাগছে সেই পাত্রের ভেতরটা।
অরুন একটু গলা খাকরে দিল যদি এতে বৃদ্ধ কিছু বলেন। অসম্ভব রোগা সেই বৃদ্ধ এবার ক্ষীণ কণ্ঠে বলে উঠলেন "এই খবরের কাগজের একদম উপরের খবরটা পড়ে শোনাও দেখি! যা লেখা আছে ঠিক তাই তাই পড়বে কিন্তু!" অরুন খুব সাবধানতার সাথে খবরের কাগজটা বের করল। প্রথম খবরের হেড লাইন দেখল। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হোক সকলে হুমকি বৃদ্ধের ...
এমন একটা শিরোনাম যেন কলজেটাকে একেবারে হতবাক করে ফেলল। অরুন এবার সেই সংবাদপত্রের প্রকাশ তারিখ দেখল। আর অবাক হয়ে গেল যে সেই তারিখ আজ থেকে তেইশ বছর আগেকার! এটা কি করে সম্ভব হল? তেইশ বছর আগের সংবাদ কেন কেউ পড়তে দিচ্ছেন?
চমকে গিয়ে বিছানার দিকে তাকাল কিন্তু কেউ নেই সেখানে! শুন্য ঘর শুধু সেই আকুয়ারিয়েমের ভেতর খেলে বেড়াচ্ছে একটা মাছ। সেই হলুদ রঙের রোদ্দুর যেন মাছটার রঙকেও হলুদ করে তুলেছে। অরুন আর কিছু বলার বা করার অবস্থায় থাকতে পারল না এরপর...
পার্থ সারথি সরকার
অরুন অনেক দিন ধরে ঘুরছে, রীতিমত হন্যে হয়ে ঘুরছে একটা চাকরির সন্ধানে!! কিন্তু সেই মহা মূল্যবান একটি চাকরির অনুসন্ধান? কোথাও যে কিছুই মিলছে না! হতাশার প্রহর যেন ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলছে যতটুকু আশা ছিল তার সবটুকুকে। কোথাও যেন আর কোন দিশা অবশেষ নেই। একজন ডুবন্ত মানুষ খড়কুটো পেলে তাই আঁকড়ে ধরে। এবারের এই সুযোগ তাই অরুনের কাছে ঠিক তেমনই লাগলো।
গতকাল পাড়ার চুমকি বউদি একটা কাজের সন্ধান দিয়েছিলেন। বাড়ির থেকে কিছুটা দূরের এক ঠিকানায় একজন বৃদ্ধ মানুষ খবরের কাগজ পড়ে শোনানর জন্য একজন লোক খুঁজছেন। যদিও আগে এই কাজে অনেকেই নিজেদের যুক্ত করতেন কিন্তু আজকাল এমন কাজের জন্য লোক মিলছে না। তাই বেতন একটু বেশি, দিন প্রতি দেড়শ টাকা দেওয়া হবে। পাঁচ টাকার খবরের কাগজ পড়তে দেড়শ টাকা শুধু বেশি নয় বরং অনেকটাই বেশি। দিনে দেড়শ হলে একমাসে সাড়ে চার হাজার তাই আর কিছু ভাবার মত তখন কোন রকম জোর ছিল না আর মনের উপরে। তাই আজ সেই ঠিকানায় চলেই এসেছে অরুন।
কিন্তু এখানে আসার পরে বাড়ীটা দেখে বেশ অবাক হল অরুন! বেশ নিজন জায়গাটা আর বাড়ীটা বেশ পুরনো। এদিকে ওদিকে ভেঙে পড়ছে। এর মধ্যে থাকা কোন বৃদ্ধ খবরের কাগজ শোনার জন্য লোক খুঁজছেন! যা হোক এক পা দুই পা করে বাড়ীর ভেতরে ঢুকতে লাগলো অরুন। আর যাই হোক যদি কিছু টাকা পাওয়া যায় সেটাই মনের ভেতর ভাবনা হয়ে রয়েছে।
কিন্তু বাড়ীর ভেতরে একটা আশ্চর্য রকম গন্ধ যেন!! অনেকটা শুটকি মাছ রান্না হলে যেমন গন্ধ আসে তেমন যেন! এক তলায় দুটো জানালা ভাঙা আর দরজাটা হাট করে খোলা। বাড়ীর ভেতরে ঢুকে একবার পিছন ফিরে দেখল, রাস্তায় কোন কুকুর বা বেড়ালেরও দেখা নেই। শুধু একটা খা খা করা রোদ যেন সব কিছু পুড়িয়ে দিতে চাইছে। বৃদ্ধ কি তাহলে দোতলায় আছেন?
একটা কোণা ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে গেল অরুন। ওই তো দেখা যাচ্ছে একজন বৃদ্ধকে! একটা ছোট চৌকির উপরে পিছন ঘুরে শুয়ে আছেন। অরুন ধীরে ধীরে ঘরে গিয়ে ঢুকল অথচ বৃদ্ধ একবারও ফিরে তাকালেন না। অরুন দেখল বৃদ্ধের শরীরের নীচ থেকে বেরিয়ে আছে একটা কাগজ, সম্ভবত ওটা একটা খবরের কাগজ! আর বৃদ্ধের পায়ের কাছে রাখা একটা ছোট টুলের উপরে রাখা একটা আকুয়ারিউয়াম। অর্ধেক জলে ভর্তি সেই পাত্র। তার উপরে সামান্য সূর্যের আলো এসে পড়ে একটা অদ্ভুত হলুদ রঙের লাগছে সেই পাত্রের ভেতরটা।
অরুন একটু গলা খাকরে দিল যদি এতে বৃদ্ধ কিছু বলেন। অসম্ভব রোগা সেই বৃদ্ধ এবার ক্ষীণ কণ্ঠে বলে উঠলেন "এই খবরের কাগজের একদম উপরের খবরটা পড়ে শোনাও দেখি! যা লেখা আছে ঠিক তাই তাই পড়বে কিন্তু!" অরুন খুব সাবধানতার সাথে খবরের কাগজটা বের করল। প্রথম খবরের হেড লাইন দেখল। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হোক সকলে হুমকি বৃদ্ধের ...
এমন একটা শিরোনাম যেন কলজেটাকে একেবারে হতবাক করে ফেলল। অরুন এবার সেই সংবাদপত্রের প্রকাশ তারিখ দেখল। আর অবাক হয়ে গেল যে সেই তারিখ আজ থেকে তেইশ বছর আগেকার! এটা কি করে সম্ভব হল? তেইশ বছর আগের সংবাদ কেন কেউ পড়তে দিচ্ছেন?
চমকে গিয়ে বিছানার দিকে তাকাল কিন্তু কেউ নেই সেখানে! শুন্য ঘর শুধু সেই আকুয়ারিয়েমের ভেতর খেলে বেড়াচ্ছে একটা মাছ। সেই হলুদ রঙের রোদ্দুর যেন মাছটার রঙকেও হলুদ করে তুলেছে। অরুন আর কিছু বলার বা করার অবস্থায় থাকতে পারল না এরপর...
লেখক - পার্থ সারথি সরকার
No comments:
Post a Comment